এমন পিতার সন্তান পিতৃতর্পণের দিনে আধোয়া আপেল খায়। খিদের কথা তাই বারবার উঠে আসে এই বইতে। উষ্ণ ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। তাতে থাকে মায়া, প্রলেপ জড়ানো কোনো দুঃখবোধ। আশৈশব না পাওয়াদের মধ্যে যে লালিত কিন্তু ক্ষোভহীন, বীতরাগহীন। আসলে জন্ম এখানে যতিচিহ্নহীন প্রত্যাবর্তন আর মৃত্যু দুপুরের গৌড় – সারং। অন্ধকারের কথা তাই এই কবিতার বইয়ে ঠাঁই পায় না। আলোর কথাও নয়। সুখের কথা নয়, দুখের কথাও নয়। এই বই জীবনকে তার সমস্ত অনিশ্চয়তা নিয়েই গ্রহণ করেছে, আর লাভ করেছে সন্ন্যাসীর প্রশান্তি। তাই তো এই কবিতার বইতে আশ্চর্য দিঘির মতো মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই যুবক যে পলাশ কুড়োনোর চাকরি চায়, অথবা যে পাখির বাসা সারিয়ে দিতে চায় তারাই তথাস্তু হয়ে বসে থাকে আমাদের গভীর ভোগবাদী জীবনের উপরে। একটিও কঠিন শব্দ ব্যবহার না করে জীবনকে যিনি এভাবে প্রকাশ করতে পারেন সেই কবির প্রতি একরাশ বিস্ময় রইল।”
পাঠ প্রতিক্রিয়া রিনি গঙ্গোপাধ্যায়।